দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ প্রকাশিত হয় ১৯০৮ সালের ২১ মার্চ এবং কার্যকর হয় ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি। এটি ১৯০৮ সালের ৫ নং আইন এবং একটি পদ্ধতিগত আইন।
এই আইনে মোট ১৫৮টি ধারা এবং ৫১টি আদেশ ছিল। তবে, ১৯১৪ ও ১৯৭৩ সালে সর্বশেষ ৩টি ধারা (১৫৬, ১৫৭, ১৫৮) এবং ১৯৪৯ সালে সর্বশেষ আদেশ নং ১৫১ বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ধারার সংখ্যা ১৫৫ এবং আদেশের সংখ্যা ৫০।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
ধারা ১ ও ২: শিরোনাম ও সংজ্ঞা
এই আইন ১৯০৮ সালের ৫ নং আইন হিসেবে প্রকাশিত হলেও কার্যকর হয় ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে। ধারা ২-এ বিভিন্ন শব্দ ও অভিব্যক্তির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- ধারা ২(২): আদালতের নির্দেশ পালনে ব্যর্থতার কারণে আরজি খারিজ হলে তা ডিক্রি বলে গণ্য হবে না।
- ধারা ২(২): আরজি খারিজের আদেশ এবং ধারা ১৪৪-এর অধীনে প্রত্যর্পণের আদেশ ডিক্রি বলে গণ্য হবে।
- দেওয়ানি মামলার রায় বলতে ডিক্রি বা আদেশের ভিত্তি হিসেবে বিচারক কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিকে বোঝায়।
- জেলা বলতে আদিম অধিক্ষেত্র সম্পন্ন প্রধান দেওয়ানি আদালতের এলাকাকে বোঝায়।
- প্রত্যর্পণের দরখাস্ত মঞ্জুর বা না মঞ্জুরের আদেশ ডিক্রির সমতুল্য (ধারা ২(২))।
- ডিক্রিদার (Decree Holder): ধারা ২(৩)।
- বিদেশি আদালত: ধারা ২(৫)।
- রায়: ধারা ২(৯)।
- সাব্যস্ত দেনাদার (Judgment Debtor): ধারা ২(১০)।
- বৈধ প্রতিনিধি: ধারা ২(১১)।
- অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা: ধারা ২(১২)।
- অস্থাবর সম্পত্তি: ধারা ২(১৩)।
- আদেশ (Order): ধারা ২(১৪)।
- এডভোকেট: ধারা ২(১৫)।
- সরকারি কর্মচারী: ধারা ২(১৭)।
- অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা: কোনো সম্পত্তির অবৈধ দখলদার কর্তৃক দখলে থাকাকালীন অর্জিত মুনাফা।
- ডিক্রির সংজ্ঞা: ধারা ২(২)।
ধারা ৩: আদালতের অধীনতা
জেলা আদালত হাইকোর্ট বিভাগের অধীন এবং জেলা আদালতের এক ধাপ নিচের স্তরের সকল দেওয়ানি আদালত এবং স্মল কজ কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ ও জেলা আদালতের অধীন।
ধারা ৬: আর্থিক এখতিয়ার
ধারা ৬-এ আর্থিক এখতিয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- স্মল কজ কোর্টস অ্যাক্ট, ১৮৮৭ অনুযায়ী ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের মামলা স্বল্প এখতিয়ার আদালতে বিচার হবে।
- যদি মামলার মূল্যমান আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের বাইরে হয়, তবে আইন দ্বারা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হলে কোনো আদালতই উক্ত মামলার বিচার করতে পারবে না।