তামাদি আইন-১৯০৮
তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৭ আগস্ট প্রকাশিত হয় এবং ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি হতে কার্যকর হয়। এটি ১৯০৮ সালের ০৯ নম্বর আইন, এতে মোট ২৯টি ধারা, ১টি তফসিল ও তাতে ১৮৩টি অনুচ্ছেদ আছে। তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন।
এ উপমহাদেশে সর্ব প্রথম ১৭৯৩ সালে তামাদি আইনের প্রবর্তন হয়। অতঃপর এ আইন পূর্ণাঙ্গরুপে প্রকাশ হয় ১৮৫৯ সালে। ১৮৭৭ সালে এই আইনের সংশোধন করা হয়। পরিশেষে ১৯০৮ সালে পুনঃসংশোধন করা হয় যা বর্তমানে চালু আছে।
অধ্যায়-১ : প্রাথমিক বিষয়
Objective
বর্তমান তামাদি আইন ১৯০৮ সালে প্রণীত হয়। এই আইনে মোট ২৯টি ধারা আছে-
অধ্যায়-২ : মামলা, আপিল ও দরখাস্তের তামাদিকাল
ধারা-৩ : তামাদিকালের পর দাখিলি মামলা ইত্যাদি খারিজ:
তামাদি আইনের ৩ ধারা কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য-
প্রাথমিক আদালতে ও আপিল আদালতে তামাদি আইনের ৩ ধারায় আপত্তি তোলা যায়-
তামাদি আইনের ৩ ধারা একটি শর্ত সাপেক্ষ বিধান-
তামাদি আইনের ৩ ধারা এই আইনের ৪ ধারা হতে ২৫ ধারার বিধান সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে-
তামাদিকাল পরে দায়েরকৃত আপিলে ৫ ধারা মোতাবেক তামাদি মওকুফের আবেদন করা না হলে আপিলটি ৩ ধারার বিধান মতে খারিজ বলে গণ্য হবে-
তামাদি আইনের ৩ ধারার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তামাদিকাল নির্ধারণ করা হয়েছে এই আইনের প্রথম তফসিলে-
ধারা-ধারা- ৪ : আদালত বন্ধ থাকলে তামাদির বিধান :
তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখে আদালত বন্ধ থাকলে আদালত বন্ধ হওয়া পূর্বে, বন্ধের পর যেদিন খুলবে বা বন্ধের সময় আদালতের সেরেস্তা খোলা থাকলে মামলা বা আপিল দায়ের করা যাবে-
ধারা-৫ : আপিল ইত্যাদির ক্ষেত্রে তামাদি বৃদ্ধি :
আপিল, রিভিউ বা রিভিশনের আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে ৫ ধারার মতে তামাদি মওকুফের জন্য আবেদন করা যায়, -
তামাদি আইনে বিলম্ব মওকুফের জন্য যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা হলো আদালতের সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা-
যথেষ্ট কারণ থাকলে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা যায় -
ধারা-৬ : বৈধ অপারগতা
কোনো মামলা অথবা কার্যধারা অথবা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি যে সময় হতে তামাদি মেয়াদ গণনা করতে হবে সেই সময়ে নাবালক কিংবা পাগল কিংবা জড়বুদ্ধি সম্পন্ন থাকলে উক্ত ব্যক্তি তার উক্ত অপারগতার অবসান হওয়ার পর প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারায় যে সময় নির্বাচন করা হয়েছে সেই সময়ের মধ্যে উক্ত মামলা অথবা কার্যধারা অথবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।
ধারা-৭ : কতিপয়ের মধ্যে একজনের অপারগতা:
যৌথভাবে কোনো মামলা অথবা কার্যধারা অথবা ডিক্রি জারির দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী কতিপয় ব্যক্তির মধ্যে একজন উপরোক্ত কোনো অপরগতায় আপতিত থাকে এবং এরূপ ব্যক্তির সম্মতি ছাড়াই দায় মুক্তি দেওয়া যায়, সেই ক্ষেত্রে তাদের সকলের বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ অতিবাহিত হতে থাকবে, কিন্তু যে ক্ষেত্রে এরূপ দায়মুক্তি দেওয়া যায় না সেই ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে একজন অন্যদের সম্মতি ছাড়া দায়মুক্তি দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত অথবা অপারগতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারো বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ অতিবাহিত হবে না ।
ধারা-৮ : বিশেষ ব্যতিক্রম:
৬ ধারা অথবা ৭ ধারার কোনো কিছুই অগ্রক্রয় অধিকার বলবতের মামলায় অথবা অপারগতা অবসায়নের বা অপারগতায় আপতিত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তিন বছরের বেশি উক্ত ধারাদ্বয়ের বিধান সম্প্রসারিত বলে গণ্য হবে না ।
ধারা-৯ : সময়ের অবিরাম চলন:
তামাদির মেয়াদ একবার অতিবাহিত হওয়া আরম্ভ হলে পরবর্তীতে মামলা দায়েরে কোনো অপারগতা বা অসামর্থতা একে থামাতে পারে না । তবে পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার ভার দেনাদারের কাছে থাকলে যতদিন তার উপর উক্ত দায়িত্ব ন্যাস্ত থাকবে ততদিন পর্যন্ত উক্ত তামাদি মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে ।
ধারা-১০ : স্বত্বার্পিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তামাদি নেই:
যে ব্যক্তির উপর সম্পত্তি সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যে অছি হিসাবে ন্যাস্ত হয়েছে তার বিরুদ্ধে বা তার আইনানুগ প্রতিনিধি বা যে ব্যক্তির উপর কোনো সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ভার দেওয়া হয়েছে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার বা তাদের উক্ত সম্পত্তির বা তার আয়ের বা অনুরুপ সম্পত্তির হিসাবের জন্য কোনো মামলা দায়ের করতে হলে তা কখনও সময়ের দৈর্ঘতায় বারিত হবে না ।
ধারা-১১ : বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলা :
‘ক’ ও ‘খ’ লন্ডনে একটি ব্যবসায়িক চুক্তি করে। উক্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে মামলা করা হলে বাংলাদেশের আইন মোতাবেক তামাদি প্রযোজ্য হবে-